July 8, 2026, 3:06 am

Planetary Wellbeing, Sustainable Education ও Digital Innovation বাস্তবায়নে নতুন উদ্যোগ
দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে পরিচালিত Erasmus+ Capacity Building in Higher Education (CBHE) প্রকল্প RESHAPE (Regenerating Socio-Cultural Sustainability and Planetary Wellbeing in Higher Education: Global Partnership)–এর আওতায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) লোক প্রশাসন বিভাগে দেশের প্রথম মাল্টিসেন্সরি লার্নিং স্পেস প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিভাগে একটি ডিজিটাল লার্নিং সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে কোনো বিভাগের উদ্যোগে এটি হবে প্রথম মাল্টিসেন্সরি লার্নিং স্পেস।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মশাররফ হোসেন ভবনে লোক প্রশাসন বিভাগের চেয়ারম্যান কক্ষে অনুষ্ঠিত “Local Impact of Global Learning: Lessons Learned from the Erasmus+ Capacity Building Project” শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব তথ্য জানান RESHAPE প্রকল্পের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সমন্বয়কারী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান।
আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও বিভাগের সিনিয়র অধ্যাপক ড. বেগম রোকসানা মিলি, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সেলিম, অধ্যাপক ড. জুলফিকার হোসাইন, অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান এবং বিভাগীয় সভাপতি অধ্যাপক ড. ফকরুল ইসলাম।
জানা যায়, গত ৩১ মে থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত RESHAPE প্রকল্পের আওতায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমানসহ লোক প্রশাসন বিভাগের ছয়জন সিনিয়র শিক্ষক ফিনল্যান্ডের Turku University of Applied Sciences, Laurea University of Applied Sciences এবং সুইডেনের University of Gävle সফর করেন।
সফরকালে তারা ইউরোপের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাল্টিসেন্সরি লার্নিং স্পেস, ডিজিটাল লার্নিং সেন্টার, Planetary Wellbeing-ভিত্তিক শিক্ষা, Sustainability-সমন্বিত পাঠ্যক্রম, গ্রিন ক্যাম্পাস ব্যবস্থাপনা এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ বিষয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। এসব অভিজ্ঞতাকে স্থানীয় পর্যায়ে বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রকল্প সমন্বয়কারী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, ইউরোপ সফরে অর্জিত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এমন একটি শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীদের শেখার দক্ষতা, সৃজনশীলতা, অংশগ্রহণমূলক শিক্ষা এবং মানসিক সুস্থতা একসঙ্গে গুরুত্ব পাবে। একই সঙ্গে ডিজিটাল লার্নিং সেন্টার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ও উদ্ভাবনী শিক্ষণ-পদ্ধতি আরও শক্তিশালী করা হবে। তিনি বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক পরিবেশকে পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগানো গেলে এটিকে আন্তর্জাতিক মানের একটি গ্রিন ক্যাম্পাসে রূপান্তর করা সম্ভব।
RESHAPE প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধি (Faculty Capacity Building), উদ্ভাবনী শিক্ষণ-পদ্ধতি ও ডিজিটাল টুলসের ব্যবহার সম্প্রসারণ (Pedagogical Innovation and Digital Transformation), পাঠ্যক্রমে Sustainability ও Planetary Wellbeing অন্তর্ভুক্ত করা, এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজে জ্ঞান স্থানান্তর ও কমিউনিটি সম্পৃক্ততা (Knowledge Transfer and Community Engagement) জোরদার করা। লোক প্রশাসন বিভাগের নতুন উদ্যোগগুলো প্রকল্পের এসব লক্ষ্য বাস্তবায়নেরই অংশ।
প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত হলেও সফল বাস্তবায়নের ভিত্তিতে এর কার্যক্রম ২০৩৪ সাল পর্যন্ত সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, ইউরোপীয় কমিশনের অর্থায়নে পরিচালিত RESHAPE প্রকল্পে বাংলাদেশ, ফিনল্যান্ড, সুইডেন ও ইন্দোনেশিয়ার মোট সাতটি বিশ্ববিদ্যালয় অংশগ্রহণ করছে। বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এবং স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ।